দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ ক্রিকেট ফাইনাল এক নাটকীয় ঘটনার জন্ম দিয়েছে। পাকিস্তানি মন্ত্রী ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি মোহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকার করায় চ্যাম্পিয়ন ভারতকে শেষ পর্যন্ত ট্রফি দেয়া হয়নি। রবিবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালে সুর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারত ৫ উইকেটে জিতলেও ট্রফি হাতে ওঠেনি তাদের। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই।
ম্যাচ শেষে দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠান শুরু হয়। তবে শুধু ব্যক্তিগত পারফরমারদের পুরস্কৃত করা হয়। বিজয়ী দলকে ট্রফি দেয়া হয়নি, সম্ভবত ক্রিকেট ইতিহাসে এটাই প্রথম এমন ঘটনা। ভারতীয় সমর্থকরা তখনও মাঠে থাকে এবং পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগাকে দুয়োধ্বনি দিয়ে বিদ্রুপ করতে থাকে। ভারতীয় দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ট্রফি নিতে রাজি, তবে সেটা এমিরেটস ক্রিকেট বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান খালিদ আল জরুনির হাত থেকে। কিন্তু নাকভি তা অনুমোদন দেননি। কর্মকর্তারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকলেও ভারতীয় খেলোয়াড়রা মাত্র ১৫ গজ দূরে দাঁড়িয়ে থাকে এবং সামনে এগোতে অস্বীকৃতি জানায়।
এর ফলে আয়োজকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, কার হাত থেকে ট্রফি দেয়া হবে তা নিয়েই মতবিরোধ দেখা দেয়। নাকভি মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতীয় সমর্থকরা একযোগে দুয়োধ্বনি করে এবং ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান তোলে। নাকভিকে জানানো হয়, তিনি জোর করে ট্রফি দিতে চাইলে ভারত আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাবে। এরপর আয়োজকরা হঠাৎ করেই ট্রফি ড্রেসিংরুমে নিয়ে যায়। ভারতীয় দল এর আগেও পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলানো থেকে বিরত ছিল এবং তিনটি ম্যাচেই টসের আগে প্রচলিত ফটোশুট এড়িয়ে যায়। এর মাধ্যমে তারা এসিসি’কে স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, নাকভির হাত থেকে তারা ট্রফি নেবে না।
ম্যাচ শেষ হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পরও পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা ড্রেসিংরুম থেকে বের হননি। একপর্যায়ে অধিনায়ক আগা ও তার সতীর্থরা বের হলে সমর্থকরা আবারও ‘ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া’ স্লোগানে মাঠ মাতিয়ে তোলে। পুরো ঘটনায় নাকভি বিব্রত হয়ে একা দাঁড়িয়ে থাকেন। মোহসিন নাকভি আগে সামাজিক মাধ্যমে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর প্লেন ক্র্যাশ উদযাপন ভঙ্গির ভিডিও পোস্ট করেছিলেন, যা পাকিস্তানের দাবি ‘অপারেশন সিঁদুরে’ ছয়টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল তার প্রতি ইঙ্গিত বহন করে।