আজ ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ভোর ৫:৪৬

প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণদের মধ্য থেকে দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি তরুণদের মধ্য থেকে দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের মাদানী গালর্স স্কুল হলে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আমরা চাই, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসীদের নতুন প্রজন্মের মধ্য থেকে দক্ষ গবেষক, উদ্যোক্তা, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও সমাজনেতা তৈরি হোক। তাঁদের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কেবল প্রবাসেই নয়, বাংলাদেশের সার্বিক ও ইতিবাচক পরিবর্তনেও যেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।” তিনি বলেন, আবেগনির্ভর কাজের চেয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার ওপর আরো বেশী গুরুত্বারোপ করা দরকার। তিনি আরো বলেন, “আমাদের কার্যক্রম যেন শুধু আবেগনির্ভর না হয়ে, বরং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, দক্ষতা, পরিমাপযোগ্য ফলাফল ও দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় সেদিকে গুরুত্ব দেয়া উচিত। উপস্থিত নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজকের এই সম্মেলনের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত যেন কেবল আবেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রতিটি ইউনিটকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, যাতে সিদ্ধান্তগুলো মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগে রূপ নেয়। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে ইসলামী মূল্যবোধ ও আদর্শ চর্চার তাগিদ দিয়ে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, “আমাদের প্রত্যেকের জীবনে কুরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। নিয়মিত সালাত, আত্মশুদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক অধ্যয়ন, সময়ের সঠিক ব্যবহার ও চরিত্রের উৎকর্ষ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।” পারিবারিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, পরিবারকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। স্ত্রী ও সন্তানের হক আদায়ের পাশাপাশি সন্তানদের উন্নত নৈতিক ও ইসলামী শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে। পরিবারের কাছে নিজেদেরকে উত্তম চরিত্রের বাস্তব দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করার আহ্বান জানান তিনি। দাওয়াতি কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. আযাদ বলেন, “মানুষের সামনে আমরা ইসলামের কথা বলব, অথচ আমাদের দৈনন্দিন আচরণে ইসলামের সৌন্দর্য প্রকাশ পাবে না, তা হতে পারে না। আমাদের চরিত্রই যেন হয় ইসলামের প্রথম দাওয়াত এবং আমাদের ব্যবহারই যেন হয় সংগঠনের প্রকৃত পরিচয়।” সমাবেশে লন্ডনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটি বিভিন্ন স্তরের নেতৃৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য প্রদান করেন।

ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ যুক্তরাজ্যের লন্ডন, স্কটল্যান্ড, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম ও লেস্টার সফর করেন এবং সেখানে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত প্রবাসীদের বিভিন্ন সমাবেশে যোগ দিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, তার এবারের যুক্তরাজ্য সফর ছিল অভিজ্ঞতা অর্জন, জ্ঞান বিনিময়, সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস। তিনি জানান, তার এবারের যুক্তরাজ্য সফরের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো হলো, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার: যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে তাঁদের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা, সম্ভাবনা এবং দেশের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার গুরুত্ব অনুধাবনের সুযোগ হয়েছে। ইসলামী প্রতিষ্ঠান ও সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন: লেস্টারের ইসলামী ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্স পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ইসলামী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ হয়েছে। উচ্চশিক্ষা ও জ্ঞানচর্চা সম্পর্কে নতুন ধারণা: অক্সফোর্ডসহ যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, জ্ঞানচর্চা এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ সম্পর্কে ধারণা লাভ করেছি। এসব অভিজ্ঞতা দেশের শিক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রমে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। আইন, বিচারব্যবস্থা ও ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ধারণা: লন্ডনের ব্রিটিশ লাইব্রেরি ও লিংকনস ইন পরিদর্শনের মাধ্যমে জ্ঞান সংরক্ষণ, আইনি ঐতিহ্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির সম্প্রসারণ: লন্ডন, স্কটল্যান্ড, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম ও লেস্টারের ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক পরিবেশ প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের বহুমাত্রিক সমাজ, প্রবাসী জীবনের বাস্তবতা এবং কমিউনিটি উন্নয়নের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে। ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি: সফরকালে বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও মতবিনিময় ভবিষ্যতে জ্ঞান বিনিময়, প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে সবকিছু মিলিয়ে তার সামগ্রিক মূল্যায়ন হচ্ছে, সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাজ্য সফরের প্রধান অর্জন হলো প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, ইসলামী ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন, শিক্ষা ও ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান থেকে জ্ঞান লাভ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি। সফরলব্ধ অভিজ্ঞতাগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে তা ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ যুক্তরাজ্য সফর শেষে তুরস্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

সর্বশেষ খবর

Scroll to Top